
থাইল্যান্ডের সৈকত বা পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো এখনকার মতো আর সহজলভ্য নাও থাকতে পারে। পর্যটকদের জন্য অবারিত সুযোগ দেওয়ার বদলে এখন থেকে ‘মানসম্পন্ন’ ভ্রমণকারী এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বেশি জোর দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। এই লক্ষ্যে বিদ্যমান ভিসা নীতিতে আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ব্যাংকক।
নজরদারিতে কড়াকড়ি ও নতুন কমিটি
সোমবার (১১ মে) থাই সরকারের মুখপাত্র রাচাদা ধনাদিরেক জানান, প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বর্তমান ভিসা বিধিমালা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। এই প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং বিনিয়োগকারী—সব ধরনের ভিসার শর্তাবলী পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পুরো বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপ্রধানমন্ত্রী পাকর্ন নিলপ্রাপুন্তকে।
সরকারের উচ্চ মহলের ধারণা, বিদেশিদের জন্য অতিরিক্ত সহজ প্রবেশাধিকার নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করছে। এই সমস্যা সমাধানে মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় একটি বিশেষ কমিটি গঠনের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। এই কমিটিকে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সুপারিশ করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার বাতিলের প্রস্তাব
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুরাসাক ফানচারোয়নওয়ারাকুল। তিনি জানান, বর্তমানে অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য চালু থাকা ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধাটি বাতিল করার প্রস্তাবনা রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবে।
নতুন নিয়মে কেবল আর্থিক সচ্ছলতা দেখালেই থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হবে না, বরং আবেদনকারীদের আরও সূক্ষ্ম ও কঠোর স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মন্ত্রী সুরাসাক স্পষ্ট করে বলেন:
"সরকার পর্যটকের সংখ্যা নয়, বরং তাদের মানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেবে।"
তিনি মনে করেন, স্রেফ পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেই অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়; বরং গুণগত মানের পর্যটনই এখন থাইল্যান্ডের লক্ষ্য।
নিরাপত্তা বনাম অর্থনীতি
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সোমবার জানিয়েছেন, ভিসা নীতি বা ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পুনর্মূল্যায়নের আগে বিভিন্ন অংশীজন ও সংস্থার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হবে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য। পর্যটনমন্ত্রী সুরাসাক ফানচারোয়নওয়ারাকুল বলেন:
"বর্তমান নীতিতে ভ্রমণ সহজ হলেও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।"
থাইল্যান্ডের এমন কঠোর অবস্থান এশিয়ার পর্যটন বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দেশটি তাদের আন্তর্জাতিক আকর্ষণ এবং পর্যটন খাতের ভারসাম্য বজায় রেখেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায়।
সূত্র: ব্যাংকক পোস্ট