
সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা নতুন কিছু নয়, তবে আস্ত একটি হরিণকে বাড়ির ভেতর ঘুরে বেড়াতে দেখে এদিন রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে যায় বরগুনার পাথরঘাটায়। কুকুরের ধাওয়া খেয়ে পথ হারানো এই অতিথিকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
যেভাবে লোকালয়ে এল বন্যপ্রাণীটি
সোমবার (১১ মে) ভোর ৬টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাববারিয়া গ্রামে এই নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত। গ্রামের মোস্তফা ফরাজির বাড়ির পুকুরপাড়ে হঠাৎ একটি হরিণকে দেখতে পান স্থানীয়রা। বনের হরিণ লোকালয়ে আসার খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায় সেখানে।
হরিণটিকে প্রথম দেখতে পাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী যুবক আসাদুল ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন:
"আমি ফসলের মাঠে কাজ করার সময় দূর থেকে হরিণটিকে আসতে দেখি। পরে কয়েকটি কুকুর হরিণটিকে তাড়া করলে এটি দৌড়ে গিয়ে একটি জালে আটকে পড়ে। পরে সেখান থেকে ছাড়িয়ে দিলে হরিণটি মোস্তফা ফরাজির বাড়ির পুকুরপাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়।"
বাড়ির মালিকের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
হরিণটি আতঙ্কিত অবস্থায় পুকুরপাড়ে অবস্থান নিলে বাড়ির মালিক মোস্তফা ফরাজি বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেন। তিনি বন্যপ্রাণীটিকে উত্যক্ত না করে দ্রুত বন বিভাগ ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি অবহিত করেন। মোস্তফা ফরাজি বলেন:
"হরিণটি কোথা থেকে এসেছে তা বলতে পারছি না। কুকুরের তাড়া খেয়ে এটি আমার বাড়ির পুকুরপাড়ে এসে আটকে পড়ে। পরে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগসহ স্থানীয়দের খবর দেই। এরপর বন বিভাগ এসে হরিণটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।"
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মৃধা জানান, সচরাচর লোকালয়ে এভাবে হরিণ দেখা যায় না বলে গ্রামের মানুষ বেশ অবাক হয়েছেন।
বন বিভাগের বক্তব্য ও তদন্ত
বন বিভাগের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হরিণটিকে হেফাজতে নেয়। জ্ঞানপাড়া বিট কর্মকর্তার বিশেষ সহকারী সুরজিৎ চৌধুরী অভিযানের বিষয়ে জানান:
"স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হরিণটি উদ্ধার করেছে। বর্তমানে হরিণটি কিছুটা অসুস্থ রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সেটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে।"
পাথরঘাটা থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব কম হওয়ায় হরিণটি পথ হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখছে না বন বিভাগ। চোরাকারবারিদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুরজিৎ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।