
চীনের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে চলা দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে বড় ধরনের ধস নামল। ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে দেশটির দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী তথা জাঁদরেল জেনারেল—ওয়েই ফেংহে এবং লি শাংফুকে স্থগিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন সামরিক আদালত। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সশস্ত্র বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ায় এটিই এখন পর্যন্ত কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ।
ঐতিহাসিক রায় ও সাজার প্রকৃতি
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) চীনের একটি সামরিক আদালত এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করে। রায়ে দুই জেনারেলকে দুই বছরের স্থগিতাদেশসহ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চীনের বিচারিক প্রথা অনুযায়ী, দণ্ডিত ব্যক্তিরা কারাগারে দুই বছর সন্তোষজনক আচরণ করলে সাধারণত এই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়। মার্কিন গণমাধ্যম 'নিউ ইয়র্ক টাইমস' এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
অভিযোগের পাহাড়
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সাবেক মন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেংহের বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ মিলেছে। তবে জেনারেল লি শাংফুর অপরাধ আরও গুরুতর বলে গণ্য হয়েছে; তিনি নিজে যেমন বিপুল অর্থ ঘুষ নিয়েছেন, তেমনই নিজের প্রভাব বলয় বজায় রাখতে অন্য কর্মকর্তাদেরও ঘুষ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সামরিক সংস্কার কার্যক্রমে দণ্ডিত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে এরাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পদমর্যাদার। যদিও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তাঁদের অপরাধের বিস্তারিত নথি জনসমক্ষে আনা হয়নি।
শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপট
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সশস্ত্র বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত এবং শতভাগ অনুগত করার যে অঙ্গীকার করেছিলেন, এই সাজা সেই পরিকল্পনারই অংশ। জেনারেল ওয়েই এবং জেনারেল লি—উভয়েই এই শুদ্ধি অভিযানের শুরুতে পদ হারিয়েছিলেন এবং পরে নিখোঁজ হয়ে যান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে একটি কড়া বার্তা দেওয়া হলো।
তথ্যচিত্র ও পরিসংখ্যান
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ'-এর দেওয়া তথ্য অনুসারে:
শি জিনপিংয়ের অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন অথবা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছেন।
এই দুই জেনারেলের সাজা প্রমাণ করে যে, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত ও শুদ্ধি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে এই কঠোর পদক্ষেপগুলো বেইজিংয়ের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিনহুয়া।