
পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বড় ধরনের চাপে পড়েছে— এমনই চিত্র উঠে এসেছে সিএনএন-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরান ও তার মিত্রদের ধারাবাহিক হামলায় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি বড় অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত আটটি দেশে বিস্তৃত ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার ফলে কয়েকটি ঘাঁটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং কিছু স্থাপনা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে।
একজন মার্কিন কংগ্রেসনাল সহকারী, যিনি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সম্পর্কে অবগত, জানিয়েছেন— এই হামলাগুলোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও এ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে।
এই অনুসন্ধানে কয়েক ডজন স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্রের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্যমতে, কিছু ক্ষেত্রে পুরো সামরিক স্থাপনাই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক কর্মকর্তা মনে করছেন, কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এসব ঘাঁটি বিপুল ব্যয়ে হলেও পুনর্গঠন করা জরুরি। এক মার্কিন সূত্র পরিস্থিতিকে “নজিরবিহীন” উল্লেখ করে বলেছে, এর আগে কখনো প্রতিরক্ষা অবকাঠামো এমন ঝুঁকির মুখে পড়েনি।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ইরান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমূল্যের ও দুষ্প্রাপ্য সামরিক সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্য ছিল উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রাডার ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সীমিত সম্পদের মধ্যে অন্যতম। ফলে এগুলো ধ্বংস হওয়ায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, পেন্টাগনের কমপট্রোলার জুলস জে হার্স্ট থ্রি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে সিএনএন-এর সূত্র বলছে, অভ্যন্তরীণ হিসাবে এই ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।
এই ব্যাপক সামরিক ও আর্থিক ক্ষতির প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও পড়েছে। এক সৌদি কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, এই সংঘাত দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট থাকা মানেই পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।
অন্যদিকে, ইরান বরাবরের মতো দাবি করে আসছে, তাদের ওপর হামলা চালাতে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে বলেই তারা আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে পাল্টা আঘাত হেনেছে।