
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিপরীতে ইরানের দাবিকৃত ফি বা টোল দিতে সাফ মানা করে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী ছয়টি রাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) এক জরুরি বৈঠক শেষে সদস্য দেশগুলো তাদের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেয়।
জিসিসি-র সম্মিলিত প্রত্যাখ্যান
আঞ্চলিক জোট জিসিসি-র সদস্য রাষ্ট্র—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং ওমান—একযোগে ইরানের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। বৈঠক পরবর্তী বিবৃতিতে জিসিসি-র মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই স্পষ্ট করে দেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের অর্থ আদায় করা সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’। বিবৃতিতে জানানো হয়, সদস্য রাষ্ট্রগুলো তেহরানের এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে।
বিরোধের নেপথ্যে: ব্যারেল প্রতি ১ ডলারের শর্ত
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে ইরান। এক পর্যায়ে তেহরান ঘোষণা দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালানো হবে। এরপর জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে তারা জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের’ (আইআরজিসি) অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার হারে টোল বা মাসুল দিতে হবে। ইরানের এই বিতর্কিত শর্তটিই এখন জিসিসি দেশগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে পড়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই সম্পন্ন হয়। ফলে এই পথে টোল আরোপ করা হলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, জিসিসি-র এই কঠোর অবস্থানের ফলে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জিসিসি দেশগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই নৌপথে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।