
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রেখেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের রাজকীয় নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন তিনি ও রানি ক্যামিলা। তবে গাম্ভীর্যের চেয়েও এই সফর বেশি আলোচনায় এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাজা চার্লসের মধ্যকার মজার সব খুনসুটি আর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণের কারণে।
মায়ের পছন্দের তালিকায় রাজা চার্লস
নৈশভোজের ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ রসিকতার ছলে নিজের মায়ের এক অজানা গোপন কথা ফাঁস করেন। ট্রাম্প জানান, তার মা ব্রিটিশ রাজা চার্লসের প্রতি ভীষণভাবে আকৃষ্ট (ক্রাশ) ছিলেন। স্মৃতি চারণ করে ট্রাম্প বলেন, তার মা রাজপরিবারকে অত্যন্ত পছন্দ করতেন এবং টিভিতে রানি বা রাজপরিবারের কোনো অনুষ্ঠান এলেই সেটি গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখতেন। ট্রাম্প বলেন, তার মা তাকে ডেকে বলতেন, ‘দেখো ডোনাল্ড, দেখো কত সুন্দর।’
ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, তার মা পুরো রাজপরিবারকে পছন্দ করলেও চার্লসকে তার কাছে খুব মিষ্টি মনে হতো। সবশেষে কৌতুকের সুরে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘আমার মা চার্লসকে খুব পছন্দ করতেন, আপনি কি এটা বিশ্বাস করতে পারেন!’
ইতিহাস ও ভাষা নিয়ে বাকযুদ্ধ
কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজা চার্লস ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্রিটিশ শাসক হিসেবে বিরল নজির স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প কৌতুক করে বলেন, ‘আজ কংগ্রেসে চমৎকার ভাষণ দেওয়ার জন্য আমি চার্লসকে অভিনন্দন জানাই। তিনি ডেমোক্র্যাটদের দাঁড় করিয়েছেন, আমি তা কখনোই করতে পারতাম না।’
এর জবাবে রাজা চার্লসও পিছু হটেননি। ১৮১৪ সালে ব্রিটিশ সৈন্যদের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসে আগুন দেওয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ১৮১৪ সালে ব্রিটিশরা হোয়াইট হাউসে আগুন লাগিয়ে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেছিল।’
পাশাপাশি ট্রাম্পের আগের এক মন্তব্যের (যেখানে তিনি বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইউরোপীয়রা আজ জার্মান ভাষায় কথা বলত) পাল্টা জবাবে চার্লস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আপনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইউরোপে সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলত। আমি কি বলতে পারি, আমরা না থাকলে আপনারা হয়তো ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন!’
বোস্টন টি পার্টি বনাম ডিনার
ভাষণের সমাপ্তিতে উইলিয়াম শেকসপিয়ারের কালজয়ী উক্তি উদ্ধৃত করেন রাজা। দুর্দান্ত আতিথেয়তার জন্য প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, এই নৈশভোজ ঐতিহাসিক ‘বোস্টন টি পার্টি’-এর তুলনায় অনেক উন্নত। এর মাধ্যমে তিনি ১৭৭৩ সালের সেই ঘটনার ইঙ্গিত দেন, যেখানে বিদ্রোহীরা ব্রিটিশদের করের প্রতিবাদে চা সমুদ্রে ফেলে দিয়েছিল।
সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন ছাপিয়ে এই সফরটি হয়ে উঠেছে পারস্পরিক কৌতুক ও বন্ধুত্বের এক অনন্য নিদর্শন।