
সমুদ্রপথে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান, একে সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন বাহিনীর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইরান সংরক্ষণ করে।
তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। ইরাভানির ভাষায়, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করা জাতিসংঘের সনদ ও সামুদ্রিক কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে তা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ইরাভানি আরও বলেন, বৈধ বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অস্থিরতা সৃষ্টির ফলে যে কোনো পরিণতির দায় এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। তেহরানের মতে, মার্কিন নৌবাহিনীর এই ‘উসকানিমূলক’ আচরণ ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা।
বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর অঞ্চলে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের অভিযোগ, তাদের তেল ও পণ্যবাহী জাহাজগুলো নিয়মিতভাবে মার্কিন বাধার মুখে পড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সামিল।
নিজ চিঠিতে ইরাভানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী হলেও জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করবে না এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে পাঠানো এই চিঠির মাধ্যমে ইরান একদিকে নিজেদের আইনি অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ১ মে’র সময়সীমার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ বন্ধে অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়তে থাকায় তেহরান বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিসরে জোরালোভাবে তুলে ধরছে।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে সমুদ্রপথে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন নজর রয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই