
জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কায় ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে রিখটার স্কেলে ৭.৪ মাত্রার এই কম্পনের পরপরই উপকূলীয় অঞ্চলে ঝুঁকির বার্তা দেয় কর্তৃপক্ষ।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের জেরে ইওয়াত, আওমোরি ও হোক্কাইডো অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থার আশঙ্কা, উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ মিটার (৯.৮৪ ফুট) উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে উপকূলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সতর্ক করে বলা হয়েছে, সমুদ্রের কাছাকাছি না যেতে।
জেএমএর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। অগভীর স্থানে এমন শক্তিশালী কম্পন হওয়ায় সুনামির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জাপানের নিজস্ব ভূ-কম্পন তীব্রতা স্কেলে এর মাত্রা ছিল ‘আপার ৫’। এ ধরনের কম্পনে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে এবং দুর্বল কাঠামোর ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
ভূমিকম্পের পর টোকিওসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। টেলিভিশনের জরুরি সম্প্রচারে জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি উপকূল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সুনামির প্রথম ঢেউ কিছু এলাকায় আঘাত হানতে শুরু করেছে এবং পরবর্তী ঢেউ আরও শক্তিশালী হতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে জাপানের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হলেও, ৭.৪ মাত্রার কম্পন ও সম্ভাব্য ৩ মিটার সুনামি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: রয়টার্স