
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বেসামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেতজ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধ্বংস অভিযান পরিচালনায় বেসামরিক ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে সেনাবাহিনী। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিছু বুলডোজার চালককে দৈনিক মজুরি দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেকের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হচ্ছে তারা কতটি ভবন ধ্বংস করতে পেরেছে তার ওপর ভিত্তি করে। মাঠ পর্যায়ের আইডিএফ কমান্ডারদের তথ্যমতে, প্রতিটি গ্রামে প্রায় ২০টি করে খননযন্ত্র বা এক্সক্যাভেটর একযোগে এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।
এই কৌশলকে আইডিএফ অভ্যন্তরীণভাবে ‘মানি প্লাও’ বা ‘অর্থের লাঙ্গল’ নামে অভিহিত করছে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘ডোমিসাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার উদ্দেশ্য কোনো অঞ্চলকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ পূর্বে ঘোষণা দিয়েছিলেন, গাজার রাফাহ ও বেইত হানুনের আদলে লেবানন সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ধ্বংস করে ফেলা হবে। তিনি আরও বলেন, উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিজ বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হবে না।
রোববার প্রথমবারের মতো দক্ষিণ লেবাননে নতুন মোতায়েনকৃত অবস্থানের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে দেখা যায়, সীমান্ত থেকে প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার ভেতরের এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ‘বাফার জোন’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বহু লেবানিজ গ্রাম এখন সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
আইডিএফ মুখপাত্র অভিচাই আদ্রায়ি এক বিবৃতিতে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের লিটানি নদী সংলগ্ন এলাকা বা নির্ধারিত সীমানার দক্ষিণে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হিজবুল্লাহর তৎপরতার আশঙ্কা দেখিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় না ফেরার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খ্রিস্টান অধ্যুষিত ডেবল শহরে এক ইসরায়েলি সেনাকে হাতুড়ি দিয়ে যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ভাঙতে দেখা গেছে। ঘটনাটিকে একজন সৈনিকের ব্যক্তিগত আচরণ বলে উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে আইডিএফ।
তবে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ লেবাননে চলমান এই ধ্বংসযজ্ঞ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি ধ্বংসের ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা আদৌ ভবিষ্যতে নিজেদের এলাকায় ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান