
রাতের আঁধারে ইউক্রেনজুড়ে তাণ্ডব—রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭ জনের প্রাণ গেছে, যাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোররাতে চালানো এই হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, রাজধানীতে এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। একটি ড্রোন নিচু দিয়ে উড়ে এসে ১৮ তলা একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শহরজুড়ে হামলায় অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জরুরি বিভাগের চার সদস্য ও দুই পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাতের হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়। সকালেও উদ্ধার তৎপরতার সময় পোড়া গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে ছিল।
দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী ওদেসায় একই সময়ের হামলায় আটজন নিহত ও আরও ২৬ জন আহত হয়েছেন। একটি বহুতল আবাসিক ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। আঞ্চলিক প্রশাসন জানায়, ওদেসা বন্দরের পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সকালে একটি বাজারে পৃথক হামলায় আরও তিনজন আহত হন।
দনিপ্রো অঞ্চলের গভর্নর জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত হামলায় সেখানে চারজন নিহত ও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। এতে আবাসিক ভবনগুলোতে আগুন ধরে যায়। একই অঞ্চলে পৃথক আরেক হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, মস্কো দাবি করেছে, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে তারা এ হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনও পাল্টা হামলার কথা জানিয়েছে। দেশটির ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার জানান, রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলের তুয়াপসে অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে।
রাশিয়ার গণমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তুয়াপসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ দুইজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।
উল্লেখ্য, তুয়াপসে রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার অবস্থিত এবং এই বন্দর দিয়ে দেশটি তেল, কয়লা ও সার রপ্তানি করে।