তুরস্ককে ঘিরে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্ট নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। একটি স্যাটেলাইট ইমেজে তুরস্কের আক্কুইউ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেখিয়ে দাবি করা হয়, ইরানের পর এবার তুরস্কের ‘ফাইল খোলা হয়েছে’।
তবে এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা পরিকল্পনার বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি এবং দাবি করা বক্তব্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নয়।
ছড়িয়ে পড়া পোস্টটি করেছেন শে গাল নামে পরিচিত একজন ইসরায়েলি বিশ্লেষক, যিনি নিজেকে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত বিষয়ে যুক্ত হিসেবে পরিচিত করে থাকেন। ওই পোস্টে বলা হয়, ইরান ছিল কেবল ‘ট্রায়াল’ এবং তুরস্ককে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে তুরস্কের সিরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভূমিকা এবং আঞ্চলিক প্রভাবকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে এসব মন্তব্য মূলত ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কোনো রাষ্ট্রীয় নীতিগত অবস্থান হিসেবে নয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, সিরিয়া ও গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আগেই বিদ্যমান। তবে এটিকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ হিসেবে উপস্থাপন করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে অতিরঞ্জিত ও অনুমাননির্ভর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে তারা সতর্ক করছেন।
অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আগেও একাধিকবার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে এবং তুরস্ককে সম্ভাব্য নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার ওপরও জোর দেন।
গাজা যুদ্ধ, সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে মতপার্থক্য দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের কোনো আনুষ্ঠানিক বা নিশ্চিত ইঙ্গিত নেই বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পোস্ট ও বক্তব্য মূলত তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।