
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ছোট কোনো সমাধান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বড় চুক্তির দিকেই নজর দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এক বক্তব্যে তিনি প্রশাসনের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করেন।
জর্জিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্প কোনো অস্থায়ী বা সীমিত সমঝোতায় আগ্রহী নন; তিনি এমন একটি ‘গ্র্যান্ড বার্গেইন’ বা বড় ধরনের চুক্তি চান, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যদি একটি “স্বাভাবিক দেশের মতো” আচরণ করতে রাজি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত। ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
বর্তমান যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ছয়-সাত দিন ধরে এই বিরতি কার্যকর রয়েছে, যা ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প কেবল যুদ্ধ থামানোর জন্য ছোট কোনো চুক্তিতে সন্তুষ্ট হতে চান না; বরং ভবিষ্যতের সব ধরনের বিরোধ মেটাতে সক্ষম একটি বড় কাঠামো গড়ে তুলতে চান।
ভ্যান্সের এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে উভয় পক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বড় চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানসহ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তরুণ ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টিও স্বীকার করেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে অনেক তরুণই প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে একমত নন—এ বিষয়টি তিনি জানেন। তবে মতপার্থক্যের কারণে রাজনীতি থেকে সরে না গিয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি বলছি না যে প্রতিটি বিষয়ে আপনাদের আমার সঙ্গে একমত হতে হবে। তবে একটি বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিমত থাকায় নিজেদের গুটিয়ে নেবেন না। বরং আরও বেশি সম্পৃক্ত হোন এবং নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালোভাবে তুলে ধরুন।”
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় চুক্তির পথে এগোলে ইরানকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হতে পারে। বিশেষ করে তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইরানের পুনঃঅংশগ্রহণের সুযোগ এ সমঝোতার অংশ হতে পারে।
তবে হিজবুল্লাহ ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের মতো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান এই বৃহৎ চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন নজর রয়েছে আসন্ন আলোচনায় ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি ঘটে কি না।
সূত্র: আল জাজিরা