
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ ইরানের প্রতি সরাসরি সমর্থন না জানালেও সংঘাত নিরসনে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন, যা চলমান সংকটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-কে তিনি এই অবস্থানের কথা জানান। আলোচনায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং অঞ্চলজুড়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়ে আলোচনায় অংশ নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ও অযৌক্তিক অবস্থানের কারণে আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আস্থার সংকটই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। তার মতে, এই অনিশ্চয়তাই পুরো অঞ্চলের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারে এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়, তা গত কয়েক সপ্তাহে আরও বিস্তৃত রূপ নেয়। প্রায় চল্লিশ দিনের লড়াইয়ে ইরান পাল্টা আঘাত হেনে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্রুত বিজয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও ইরানি পক্ষ উল্লেখ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সেই সুযোগে ইসলামাবাদে দুই পক্ষ আলোচনায় বসে। সেখানে ইরান সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো দাবি তুলে ধরে একটি প্রস্তাব দেয়। দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি, প্রতিনিধি দল খালি হাতে ফিরে যায়।
যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ উপস্থিতি এবং আলোচনার ব্যর্থতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমন বাস্তবতায় ইরান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সৌদি আরব সরাসরি পক্ষ না নিলেও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করছে, আর ইরানও শান্তির কথা বললেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস না করার বার্তা পুনর্ব্যক্ত করছে।