
নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার প্রাক্কালে ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—তার দাবি, তেহরানের তেল বিক্রি ঠেকাতে একাধিক দেশ ইতোমধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান যেন আন্তর্জাতিক বাজারে কোনোভাবেই তেল বিক্রি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ কাজ করছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে এই নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমানে “অনেক ইতিবাচক ঘটনা” ঘটছে, যা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলবে। তার এই মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পথে এগোচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তা এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে একইসঙ্গে তিনি ইরানের সামরিক শক্তিকে তুচ্ছ করে বলেন, দেশটির বাহিনী এখন প্রায় “বিধ্বস্ত” অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের নৌবাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাদের পুরো নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।” তার মতে, সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হবে, কারণ অন্য দেশগুলোও ইরানকে তেল বিক্রি থেকে বিরত রাখতে সহযোগিতা করছে। এতে বিশ্ববাজারে ইরানের তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং আসন্ন অবরোধের কারণে ইতোমধ্যে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কার তাদের পথ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “অনেক জাহাজ আমাদের দেশের দিকে আসছে তেল সংগ্রহ করার জন্য। তারা আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেবে না।”
তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব জ্বালানি মজুদ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারের চাহিদা পূরণ এবং জাহাজগুলোকে বিকল্প পথে চলাচলে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে তার কড়া মন্তব্য এবং নৌ-অবরোধে অন্যান্য দেশের সম্পৃক্ততার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই অবরোধ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যবাহী জাহাজ চলাচলে কী প্রভাব ফেলবে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি