
ইরানে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্য নিখোঁজ থাকার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই তথ্য ফাঁসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধার অভিযান মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, তথ্য প্রকাশের আগে ইরান জানত না যে তাদের ভূখণ্ডে আরও একজন মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সংবাদ প্রকাশের পরপরই তেহরান সতর্ক হয়ে ওই সেনাকে খুঁজে বের করতে পুরস্কার ঘোষণা করে।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্য ফাঁসকারীকে শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হয় সূত্রের নাম দিন, নাহলে জেলে যান।’
প্রেসিডেন্টের দাবি, এই তথ্য প্রকাশের ফলে নিখোঁজ সেনার অবস্থান নির্ধারণ করা মার্কিন বাহিনীর জন্য অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তথ্য ফাঁসকারীকে তিনি ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করে বলেন, হয়তো সে এর পরিণতি বুঝতে পারেনি। তবে যেই হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর পাইলট ও ওয়েপন সিস্টেম অফিসার উভয়েই প্যারাসুটে নেমে যান। পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দ্বিতীয় ক্রু সদস্য দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেভি সিল টিম সিক্সের কমান্ডোরা ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এই জটিল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীকে দূরে রাখতে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলাও চালানো হয়। একই সঙ্গে সিআইএ বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালায়, যাতে ইরান মনে করে উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয় এবং বর্তমানে উভয় সেনাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসের ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘পাইলট এবং ক্রু সদস্য উভয়ই বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তারা বেশ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।’
যদিও তারা কিছুটা আহত হয়েছিলেন, বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ভেতরে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম যুদ্ধবিমান ক্ষতির ঘটনা।
এই সফল উদ্ধার অভিযান যেমন মার্কিন বিশেষ বাহিনীর দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে, তেমনি তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউস ও গণমাধ্যমের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি