
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবারও কঠোর অবস্থান জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে পানি পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্রের পাশাপাশি ডেসালিনেশন প্ল্যান্টকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার এই মন্তব্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কোটি মানুষের নিরাপদ পানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
এর আগে ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো নিয়ে একাধিকবার হুমকি দিলেও সোমবার প্রথমবারের মতো পানি শোধনাগারকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে সামনে আনেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আমাদের সামরিক অভিযান শেষ করতে একটি নতুন এবং আরও যুক্তিসংগত সরকারের সঙ্গে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘যদি খুব শিগগির কোনও চুক্তি না হয় এবং যদি হরমুজ প্রণালি দ্রুত ‘ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ না করা হয়, তাহলে আমরা ইরানে আমাদের ‘অবস্থান’ শেষ করব তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র ও খার্গ দ্বীপ (এবং সম্ভবত সব ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) ধ্বংস করে।’
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইউসরা সুয়েদি মনে করেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সমষ্টিগত শাস্তির প্রবণতাকে উসকে দেয়। তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই সমষ্টিগত শাস্তির উদাহরণ, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে নিষিদ্ধ। কোনও সরকারের ওপর চাপ দিতে পুরো বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা যায় না।’
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ‘তাদের কল্পনারও বাইরে’। বেসামরিক স্থাপনায় হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘এই প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী সবসময় আইনের সীমার মধ্যেই কাজ করবে।’