
প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে সাংহাই উপকূল-সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি এক বিস্ময়কর দৃশ্য নজরে এসেছে, যা প্রথম দেখায় নতুন কোনো দ্বীপের আবির্ভাব বলে মনে হলেও বাস্তবে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন—এটি হাজারো মাছ ধরার জাহাজের অস্বাভাবিক সমাবেশ।
পূর্ব চীন সাগরে কয়েক হাজার বাণিজ্যিক মাছ ধরার জাহাজকে এমনভাবে অবস্থান নিতে দেখা গেছে, যেন তারা কোনো সামরিক কৌশলগত মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ২০০ জাহাজকে সমান্তরাল সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। গত সপ্তাহে এই দৃশ্য চোখধাঁধানো হলেও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি নিছক মাছ ধরার কার্যক্রম নয়। তাদের মতে, বেসামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যবহার করে চীন কার্যত এক ধরনের ‘ডি-ফ্যাক্টো’ নৌ-মহড়া পরিচালনা করছে।
প্রতিবছর পূর্ব চীন সাগর দিয়ে প্রায় ১৫ লাখ জাহাজ চলাচল করে। তবে গত ডিসেম্বরেই প্রথম এমন অস্বাভাবিক বিন্যাস ধরা পড়ে। সে সময় ২ হাজারের বেশি ছোট নৌযান সাংহাই উপকূলে জড়ো হয়ে ইংরেজি উল্টো ‘L’ অক্ষরের মতো দুটি নির্দিষ্ট কাঠামোয় অবস্থান নেয়।
পরবর্তী জানুয়ারিতে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। তখন প্রায় এক হাজার মাছ ধরার নৌকা প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল জুড়ে একটি বড় আকারের আয়তাকার ঘের তৈরি করে। ‘জাহাজের দেয়াল’ হিসেবে পরিচিত এই বিন্যাস এতটাই ঘন ছিল যে ওই পথে চলাচলকারী কার্গো জাহাজগুলোকে পথ এড়িয়ে চলতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে জটিল নৌপথ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
সাধারণত মাছ ধরার নৌকার চলাচল জিপিএস ডেটায় এলোমেলোভাবে দেখা যায়। তবে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ইনজেনি-স্পেস-এর চিফ অপারেটিং অফিসার জেসন ওয়াং বলেন, ‘প্রকৃতিতে খুব কমই এমন নিখুঁত সরলরেখা দেখা যায়। আমরা সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ বা সর্বোচ্চ ১ হাজার জাহাজের সমাবেশ দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু হাজার ছাড়িয়ে যাওয়াটা অনেকটা অস্বাভাবিক।’