
দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের জেরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় সব ধরনের খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ইরান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) চতুর্থ দিনের মতো সংঘাত অব্যাহত থাকায় সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি সরকারি বিবৃতির বরাত দিয়ে জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি বন্ধ থাকবে। সরকারের অগ্রাধিকার হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। শুধু প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতিই নয়, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা। এতে আঞ্চলিক খাদ্যবাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কোন দেশগুলো ঝুঁকিতে?
সাম্প্রতিক বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কৃষি ও খাদ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক হলো ইরাক। দেশটি ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ দুগ্ধজাত পণ্য, ফলমূল, সবজি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার আমদানি করে। রপ্তানি বন্ধ থাকলে ইরাকের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানিকারক সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি তাজা ফল, শুকনো ফল ও জাফরান আমদানি করে এবং এর একটি বড় অংশ পুনরায় রপ্তানি করে। ফলে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু আমিরাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, অন্য দেশেও পড়তে পারে।
এছাড়া বড় আমদানিকারকদের মধ্যে রয়েছে চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুরস্ক, ওমান, কাতার, কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তান।
ইরান থেকে এসব দেশে মূলত পেস্তা, খেজুর, জাফরান, গ্রিনহাউস সবজি, সামুদ্রিক মাছ, বিস্কুট, মিষ্টি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি হয়ে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের খাদ্যবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা