
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে পরিচালিত পাল্টা অভিযানের অংশ হিসেবেই এ আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটিএইচই নোভা’ নামের ট্যাংকারটি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ড্রোন হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘দুটি ড্রোন দিয়ে আঘাত করার পর হরমুজ প্রণালীতে থাকা ট্যাংকারটিতে এখনো আগুন জ্বলছে।’
এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় আইআরজিসি। জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রপ্তানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় একটি অংশও এই পথেই যায়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ—অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ব্যারেল—এই সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করে। ফলে প্রণালীটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।