
দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ধারাবাহিকতায় এবার একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
হামলাটি হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে সংঘটিত হয়। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, প্রাথমিকভাবে পাঁচজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করা হলেও ধ্বংসস্তূপ সরানোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে তেহরান। ইরান দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, দেশের নিরাপত্তা কাঠামো ও নেতৃত্বব্যবস্থাও। আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমে এমনও দাবি ওঠে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সংশ্লিষ্ট কিছু স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু ছিল।
মিনাবের স্কুলে হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রেণিকক্ষ চলাকালীন সময়েই বিস্ফোরণ ঘটে এবং স্কুল ভবনের একটি অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের পাশে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বই-খাতা ও শিক্ষার্থীদের ব্যাগ।
ইরানি কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।