
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ঘোষণা দিয়েছে, তারা নতুনভাবে সব পণ্যে শুল্ক আরোপ মেনে নেবে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় কমিশন যুক্তরাষ্ট্রকে গত বছর স্বাক্ষরিত ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে মনে করানো হয়েছে, ‘চুক্তি মানে চুক্তি’, এবং উভয় পক্ষের দায়িত্ব হলো ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক উপকারী বাণিজ্য নিশ্চিত করা।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রথমে সব পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা পরে ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ইইউ ওয়াশিংটনকে পুরোপুরি স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
গত বছরের চুক্তি অনুযায়ী, ইস্পাত ও খাতভিত্তিক শুল্কের বাইরে থাকা অধিকাংশ ইইউ পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে বিমান ও যন্ত্রাংশের মতো কিছু পণ্য শুল্কমুক্ত থাকত। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইইউও বহু মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেয়।
রয়টার্স জানাচ্ছে, নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক চুক্তির পরিপন্থী কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এতে ইইউর তুলনামূলক সুবিধা হ্রাস পেতে পারে, কারণ একই হার অন্যান্য চুক্তিবিহীন দেশগুলোর ওপরও প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বাণিজ্য পর্যবেক্ষক সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড অ্যালার্ট জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ইইউ সামগ্রিকভাবে ০.৮ শতাংশ পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আর ইতালির জন্য অতিরিক্ত ১.৭ শতাংশ পয়েন্ট শুল্ক চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক করেছে, তাদের পণ্যগুলোকে পূর্বনির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার বাইরে কোনো শুল্ক ছাড়াই প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। অনিশ্চিত শুল্কনীতি বৈশ্বিক বাজারে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এবং বাণিজ্যিক আস্থা নষ্ট করতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইইউর বাণিজ্য কমিশনার মারোস শেফচোভিচ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক-এর সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।