
যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্র নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে প্রকাশিত দলিলে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাকি কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টেইনের পরামর্শ নিয়েছিলেন। আরও চাঞ্চল্যকরভাবে সেখানে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে মোদি ইসরায়েলে গিয়ে নেচেছেন ও গেয়েছেন। তবে ভারত সরকার এই অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের বরাতে এমন দাবি সামনে এসেছে। শনিবার প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে প্রকাশ পাওয়া একটি ই-মেইলকে সূত্র ধরে এ তথ্য উঠে আসে। ওই ই-মেইলে এপস্টেইন নিজেই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যেই মোদি তার পরামর্শ অনুসারে ইসরায়েল সফর করেছিলেন।
ই-মেইলটিতে এপস্টেইন লিখেছেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি পরামর্শ নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে তিনি ইসরায়েলে গিয়ে নেচেছেন-গেয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাদের দেখা হয়েছিল। এতে কাজ হয়েছে।’ এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক ছড়ায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুতই এসব দাবির তীব্র সমালোচনা করে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের বিষয়টি ছাড়া ই-মেইলে থাকা বাকি ইঙ্গিতগুলো একজন দণ্ডিত অপরাধীর ভিত্তিহীন ও রুচিহীন কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। এসব সম্পূর্ণ অবজ্ঞার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।’ তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ইসরায়েল সফর করেন এবং সে সময় দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটি ছিল ভারতের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর, এমনটাই জানিয়েছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সফরের সময় ভারত ও ইসরায়েল তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছিল। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৯২ সালে।
এদিকে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পেছনেও রয়েছে আইনগত প্রেক্ষাপট। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এপস্টেইন সম্পর্কিত সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এসব নথি, যেখানে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার দলিল, ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।