
করাচির ব্যস্ত এক শপিং সেন্টারে লাগা ভয়াবহ আগুনে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ৬০ জনে পৌঁছেছে, যা নগরবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক তথ্য হলো—একটি বদ্ধ দোকান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ৩০টি মরদেহ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আগুন লাগার পর থেকেই সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে এবং পর্যন্ত তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় এখনো অন্তত ৮০ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
করাচি দক্ষিণ অঞ্চলের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সৈয়দ আসাদ রাজা পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-কে বলেন, ‘দুবাই ক্রোকারি’ নামে ম্যাজানাইন ফ্লোরের একটি দোকান থেকেই পাওয়া গেছে ৩০ জনের মরদেহ।
তিনি জানান, আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শপিং সেন্টারে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। মানুষজন দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পদদলিত হওয়ার আশঙ্কায় কয়েকজন ওই দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগুনে পুড়ে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পোড়া মার্কেট থেকে সব মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আগুনে পুড়ে নিহতদের অনেকের দেহাবশেষ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে খালি চোখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫০টি পরিবার তাদের ডিএনএ স্যাম্পল দিয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা