
পাকিস্তানের করাচি শহরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬-এ পৌঁছেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন, যার মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। সিন্ধু সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের তালিকায় নতুনভাবে আরও তিনজনের নাম যুক্ত হওয়ায় এখন পর্যন্ত ৭৩ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার দুপুরের পর ভবনের বিভিন্ন অংশে পুনরায় আগুন জ্বলে ওঠায় দমকল বাহিনীকে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়।
শনিবার রাতে শুরু হওয়া এই আগুন ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঝলসে ধরে। উদ্ধারকারীদের মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খান জানিয়েছেন, আগুন দ্রুত নিচতলা থেকে উপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ায় পুরো ভবন আগুনের কুণ্ডলীতে পরিণত হয়।
১,২০০টিরও বেশি দোকান থাকা মলে পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল না থাকায় ঘন ধোঁয়া জমে, যা উদ্ধার তৎপরতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। আগুনের তীব্রতায় ভবনের কিছু স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একটি অংশ ধসে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা দেয়াল ভেঙে ও জানালা কেটে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে গুল প্লাজার সামনে জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ও নিখোঁজদের স্বজনরা ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসন মাইকিং করে সতর্ক করে জানিয়েছে, ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চললেও ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
করাচির এই অগ্নিকাণ্ড শহরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। অগ্নিনির্বাপকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর পর শীতলীকরণ প্রক্রিয়ার সময় নতুন করে শিখা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
শত শত দোকানদার সহায়-সম্বল হারিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছেন। নিখোঁজদের পরিবার ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন। উদ্ধারকারীরা এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধোঁয়াচ্ছন্ন ও নড়বড়ে ভবনের ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: জিও নিউজ