
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে কারাকাস থেকে সরানোর কয়েক মাস আগে থেকেই দেশটির প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গোপন আলোচনা চলে আসছিল।
রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার পরও এই সংযোগ অব্যাহত ছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো। মার্কিন কর্মকর্তারা কাবেলোকে সতর্ক করেছিলেন যেন তিনি তার অনুগত নিরাপত্তা বাহিনী বা সশস্ত্র সমর্থকদের মাধ্যমে বিরোধীদের ওপর কোনো হামলা না চালান।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোর পতনের পরও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর একটি বড় অংশ কাবেলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল খনিগুলোর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য কাবেলোর ওপর কিছুটা নির্ভরশীল।
যদিও কাবেলো মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত, তবুও ৩ জানুয়ারি অভিযানে তাকে স্পর্শ করা হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কাবেলো যদি তার বাহিনী নিয়ে বিদ্রোহে নামেন, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের অবস্থানও ঝুঁকিতে পড়বে।
কাবেলো দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার দ্বিতীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি এবং মাদুরোর শাসনামলে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন। তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ‘কালেকতিভো’ নামক মোটরসাইকেল আরোহী সশস্ত্র বেসামরিক বাহিনীর ওপর, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে বিক্ষোভ দমন করার অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে কাবেলো সরাসরি ও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত আছেন। বিশেষত তার ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আইনি মামলাগুলো শিথিল করার বিষয়ে দরকষাকষি চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদক পাচার চক্র ‘কার্টেল অব দ্য সানস’-এর প্রধান হিসেবে কাবেলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মাদুরো আটক হওয়ার পর অনেক মার্কিন রাজনীতিবিদ প্রশ্ন তুলেছেন কেন কাবেলোকে আটক করা হয়নি। রিপাবলিকান প্রতিনিধি মারিয়া এলভিরা সালাজার কাবেলোকে মাদুরোর চেয়েও ‘ভয়ংকর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বর্তমানে কাবেলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার তদারকি করছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করছে, তার নিয়ন্ত্রণে থাকা কারাগারগুলো থেকে বন্দীদের মুক্তির গতি ধীর এবং এখনও শত শত মানুষ অন্যায়ভাবে আটক রয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স