
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং পূর্বপরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ রয়েছে এমন আশ্বাস পাওয়ার পর তেহরানের প্রতি নিজের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানের একটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ তাকে নিশ্চিত করেছে যে বর্তমানে দেশটিতে আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হচ্ছে না এবং ঘোষিত ফাঁসির আদেশগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এ সংকটের মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। তিনি বলেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
ইরানের পক্ষ থেকে এমন নমনীয় অবস্থানের কথা জানানোর পর ট্রাম্প বলেন, তিনি পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদিও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই কাতার থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি কিছুটা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়ানোর একটি ‘সম্মানজনক পথ’ বা ফেস-সেভিং কৌশল হতে পারে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তুসির মতে, ট্রাম্প বড় যুদ্ধে জড়াতে অনিচ্ছুক হলেও নিজের প্রভাব ও চাপ বজায় রাখতে চান।
অন্যদিকে স্টিমসন সেন্টারের বারবারা স্লাভিন মনে করেন, ট্রাম্প এখনো ইরানের ওপর সীমিত পরিসরের কোনো হামলার বিকল্প বিবেচনায় রাখতে পারেন, যাতে তিনি আন্দোলনকারীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি তুলতে পারেন। তবে আপাতত ওয়াশিংটন ধ্বংসাত্মক বড় যুদ্ধের পথ থেকে সরে আসছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কাতারের বিমান ঘাঁটি থেকে তাদের কিছু কর্মী সরিয়ে নেয়। একই সময়ে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে জানায়, হামলা হলে তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।
এই পারস্পরিক হুমকি ও পাল্টা হুমকির কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ড ও ফাঁসি বন্ধের আশ্বাস এবং ট্রাম্পের তুলনামূলক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা আপাতত কিছুটা প্রশমিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: আল জাজিরা