
ভারতে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার লক্ষ্য নিয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিক) সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বড় কোনো সাফল্য দেখেনি বিজেপি, তাই এই পদক্ষেপকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
সূত্রের বরাতে জানা যায়, সম্প্রতি তামিলনাড়ু সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে নেতাদের নির্দেশ দেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শুধু লড়াই নয়, জয়ের লক্ষ্যও নির্ধারণ করতে হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি মাত্র চারটিতে জিতেছিল, আর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে কোনো আসন জয় করতে পারেনি।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের মিত্র দল এআইএডিএমকের প্রধান এডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামীর সঙ্গে অমিত শাহের সাক্ষাৎ নির্ধারণ করেননি। এর মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে এনডিএকে অবশ্যই ডিএমকের বিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করতে হবে।
এদিকে, বিজেপি সক্রিয়ভাবে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা যাচাই করছে। টিভিক নিজেকে তামিলনাড়ুর বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বিশেষ করে, গত সপ্তাহে টিভিক জানিয়েছে, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতার কারণে তাদের কংগ্রেসের সঙ্গে স্বাভাবিক জোট হতে পারে। সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এরপর থেকেই বিজেপির উদ্যোগ আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
টিভিকের মুখপাত্র ফেলিক্স জেরার্ড বলেন, "ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে কংগ্রেস ও টিভিকে স্বাভাবিক মিত্র। এই অর্থে আমরা সব সময়ই স্বাভাবিক অংশীদার। রাহুল গান্ধী ও আমাদের নেতা বন্ধু। কংগ্রেস ও টিভিকের জোটের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমার মতে, তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির বর্তমান নেতৃত্বের ব্যক্তিগত স্বার্থ (ব্যবসায়িক বা আর্থিক) টিভিকের সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে তাদের বাধা দিচ্ছে।"
টিভিকের সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের এই চেষ্টা অমিত শাহের কোর কমিটির বৈঠকের নির্দেশনার সঙ্গে মিল রয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বৈঠকে শাহ নেতাদের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এবং জোটের সম্ভাবনা নিয়ে মতামত নেন। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আবেগের ভিত্তিতে নয়, নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে।
শাহ আরও বলেন, নির্বাচনী লড়াই হওয়া উচিত এনডিএ বনাম ডিএমকের মধ্যে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়। নেতাদের দ্রুত প্রার্থী চিহ্নিত করার এবং ১৪ জানুয়ারির পংগলের মধ্যে একটি বৃহত্তর জোট কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দেন।
সূত্র জানায়, অমিত শাহ ইপিএসের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার পেছনে রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। বিজেপি দ্রুত এগোতে চায় এবং তামিলনাড়ুর বিরোধী রাজনীতিতে কোনো শূন্যস্থান রাখতে চায় না। একজন বিজেপি নেতা বলেন, "মূল বার্তাটি ছিল, এনডিএ কোনো একটি দল বা একজন নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ডিএমকের বিরোধী সব শক্তিকে একত্রিত করতে হবে। এর মধ্যে এএমএমকে ও পিএমকের মতো দল, এমনকি এআইএডিএমকের ভেতরে অসন্তুষ্ট নেতারাও রয়েছেন।"
সূত্র: এনডিটিভি