
দক্ষিণ ইয়েমেনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর পুনর্দখল করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) কাছ থেকে হাজরামাউত ও আল মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিয়েছে। এতে উপসাগরীয় দুই শক্তি সৌদি আরব ও ইউএই মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেনসিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)-এর প্রধান রাশাদ আল-আলিমি শনিবার বলেন, সৌদি সমর্থিত ‘হোমল্যান্ড শিল্ড’ বাহিনী সীমান্ত সংলগ্ন এই প্রদেশগুলোতে “রেকর্ড সাফল্য” অর্জন করেছে। একদিন আগে শুরু হওয়া অভিযানে তারা সব সামরিক ও নিরাপত্তা অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, হাজরামাউতের রাজধানী ও পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মুকাল্লার নিয়ন্ত্রণও পুনরায় সরকারি বাহিনীর হাতে এসেছে। গত মাসে এসটিসি শহরটি দখল করেছিল, এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে সৌদি বাহিনী হামলা চালিয়েছিল।
হাজরামাউত প্রদেশের সব জেলাই এখন সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে সরকার। একই সঙ্গে আল মাহরা প্রদেশের যুব দপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওমর সুয়াইলাম জানান, এসটিসি বাহিনী প্রত্যাহার করার পর হোমল্যান্ড শিল্ড প্রদেশের নয়টি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ডিসেম্বরের শুরুতে এসটিসি কর্তৃক এই দুই প্রদেশ দখল করা শুরু করার পর দেশজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এই দুটি প্রদেশ ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড জুড়ে বিস্তৃত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে।
আল জাজিরার ইয়েমেন বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ আল-শালাফি বলেন, “গত এক দিনে ইয়েমেনের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী সরাসরি মাঠপর্যায়ে হস্তক্ষেপ করে সংঘাতের সমাধান করেছে। এরপর রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে সরকার সৌদি আরবে এক সম্মেলনের জন্য এসটিসিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।”
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন এসটিসি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১৫২ জন আহত এবং ১৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার এসটিসির এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, সৌদি যুদ্ধবিমান মুকাল্লার পশ্চিমে বারশিদ এলাকায় তাদের একটি ঘাঁটিতে “তীব্র” বিমান হামলা চালিয়েছে।
তবে সংলাপের প্রস্তাবকে এসটিসি স্বাগত জানিয়েছে। তারা এটিকে “দক্ষিণের জনগণের আকাঙ্ক্ষা রক্ষার আন্তরিক সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হাজরামাউতের সাইউন শহরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হচ্ছে এবং নাগরিক সেবা প্রদানে কাজ শুরু হয়েছে। গভর্নর সালেম আহমেদ সাইদ আল-খানবাশি হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সাইউন বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছেন।
তবে দক্ষিণের অন্যান্য এলাকায় উত্তেজনা এখনও অব্যাহত। সরকার অভিযোগ করেছে, এসটিসি আদেন বন্দরনগরীতে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে অসুস্থ ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা ব্যক্তিসহ অনেককে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কিছু মানুষকে আটক করা হয়েছে।
সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, “আদেনে নাগরিকদের চলাচলে এই বাধা সংবিধান লঙ্ঘন এবং রিয়াদ চুক্তির পরিপন্থি। আমরা এসটিসিকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।”
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাজরামাউত থেকে আদেনের দিকে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে সরকারি বাহিনী, যেখানে এসটিসির শক্ত ঘাঁটি অবস্থিত।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বন্ধ হওয়া আদেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কিছু ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে। তবে বন্ধের জন্য সরকার ও সৌদি আরব একদিকে এবং এসটিসি অন্যদিকে একে অপরকে দায়ী করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েমেন দূতাবাস জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপ সোকোত্রা থেকে ফ্লাইট চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং কিছু ফ্লাইট বিকল্প পথে পরিচালনা করা হচ্ছে।