.png)
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-কে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইয়েমেনের সরকার (প্রেসিডেন্ট কাউন্সিল-ওয়াইপিসি) সম্প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেনে সক্রিয় সব দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের জন্য সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছে। রিয়াদ এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। দক্ষিণ ইয়েমেনে ন্যায্য সমাধানের জন্য সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা জরুরি।”
গত শুক্রবার টেলিভিশনে এক ভাষণে এসটিসির প্রেসিডেন্ট এইদারুস আল জুবাইদি জানিয়েছিলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করবে তাদের সংগঠন। তিনি বলেন, “আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্বাধীনতা; সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য দুই বছরের একটি রূপান্তরকাল বা ক্রান্তিকালীন পর্ব শুরু করছি। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও আহ্বান জানাচ্ছি, দক্ষিণ ও উত্তর ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। দুই বছর পর দক্ষিণাঞ্চলে গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
একই সঙ্গে আল জুবাইদি সতর্ক করেছেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে দাবি পূরণ করতে। যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আলোচনায় এগিয়ে না আসে বা দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ, ভূমি ও বাহিনীর ওপর কোনো হামলা হয়, আমরা দু’বছর অপেক্ষা করব না। সেই আগেই স্বাধীনতা ঘোষণা করব। এটি হবে একটি সাংবিধানিক ঘোষণা।”
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসটিসিকে সংলাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়।
ইয়েমেনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদী সৌদিতে আশ্রয় নেন। হুথিদের দমন ও সরকারের পুনর্বাসনের জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গঠন করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলেও পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ তারা এখনো অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহীরা এবং দক্ষিণাঞ্চল আছে প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলের দখলে।
এসটিসি ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে মিত্র হিসেবে যোগ দিয়েছিল, পরে জোট থেকে সরে আসে। ২০২২ সালে তারা হাদ্রামৌতসহ দক্ষিণাঞ্চল দখল করে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতা লাভ করে। সম্প্রতি এই সমর্থন প্রকাশ্যে আসার পর সৌদি আমিরাতকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়, যা আমিরাত মেনে নেয়।