
দেশের ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার দাবি করেছে সরকার। তবে এর পরও দেশের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের প্রথম দিন বুধবার (১ জুলাই) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল ৩ হাজার ৬২৭ জন শিশু।
সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় গত ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও প্রকাশ শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির হিসাবে, গত ১ মে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৫০ জন। এক মাস পর ১ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৮০ জনে।
সরকার শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়ার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালে রোগীর চাপ এখনো সাড়ে তিন হাজারের বেশি রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় ১৬৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে মারা গেছেন ২৬৯ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৮৮, সিলেটে ৮১, ময়মনসিংহে ৬২, চট্টগ্রামে ৫১, বরিশালে ৩৯, খুলনায় ২৮ এবং রংপুর বিভাগে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছেন ৯৫১ জন। তাদের মধ্যে ৮৮২ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালে ৩৪০ জন, চট্টগ্রামে ২০০ জন, বরিশালে ১২১ জন, সিলেটে ৬৯ জন, খুলনায় ৬০ জন, রাজশাহীতে ৩৭ জন, ময়মনসিংহে ৩২ জন এবং রংপুরে ২৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮৫ হাজার ৫০৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৮২ জন।
এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৩২ জন।