.jpeg)
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে মাদক বিক্রিতে বাধা দিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত টাইলস মিস্ত্রি সাগর (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। টানা ১৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত সাগর চাঁদপুর সদর উপজেলার কেতুয়া এলাকার জুলফু হাজীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিসি রোড এলাকায় হালিমা মাদ্রাসার ২ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে টাইলস মিস্ত্রির কাজ করতেন।
নিহতের বড় ভাই জসিম উদ্দিন হৃদয় জানান, ছুরিকাঘাতের পর থেকেই সাগর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে তিনি মারা যান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ জুন বিকেলে রায়পুর পৌর শহরের হল রোড এলাকার নদীর পাড়ে মাদক বিক্রিকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সাগরের পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় রায়পুর উপজেলার দেনায়েতপুর এলাকার ইমাম উদ্দিন বেপারী বাড়ির বাসিন্দা মো. নুরুল আমীন (৪৫)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সময় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে। স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছিল।
ঘটনার ১৭ দিন পর, গত সোমবার (২৯ জুন) নিহত সাগরের শাশুড়ি বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনার পর নুরুল আমিন নুরুকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। সোমবার (২৯ জুন) তাকে আবার আটক করা হয়েছে। সাগরকে গুরুতর জখমের ঘটনায় তার শাশুড়ি বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।