
দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। জুনের শুরুতেই বিভিন্ন জেলায় রোগী শনাক্ত হওয়ায় এবং বর্ষার আগে মশার লার্ভার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই হাসপাতালে হাম ও ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা চলায় ক্রস সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে, যার মধ্যে একটি ঘটনায় এক দেড় বছরের শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যিনি হাম থেকে সেরে ওঠার পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে মারা যান।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮ জন ছাড়পত্র পেলেও কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা বাড়লে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালুর প্রস্তুতি থাকলেও এখনো তা চালু হয়নি এবং সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসা চলছে। একই সময়ে স্থানীয় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে র্যালি ও প্রচারণা চালানো হয়েছে।
খুলনা বিভাগে চলতি বছরের শুরু থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ৩৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫৮ জন। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত পৃথক ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হয়নি, মেডিসিন ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিভাগের বিভিন্ন জেলায় রোগীর সংখ্যা ছড়িয়ে থাকলেও একাধিক হাসপাতালে এখনো আলাদা ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে ওঠেনি।
চট্টগ্রামে ১ জানুয়ারি থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ১৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে কয়েকজন রোগী চিকিৎসাধীন। এর আগের বছরগুলোতে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়, যেখানে হাজার হাজার রোগী আক্রান্ত এবং বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে আরও জোর দিতে হবে।
ময়মনসিংহে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন চিকিৎসাধীন আছেন। রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় এখনো আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়নি, তবে পরিস্থিতি বাড়লে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল বিভাগে পাঁচ মাসে ১ হাজার ১৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৮০ জন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে এখন পর্যন্ত এখানে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখনো আলাদা ডেঙ্গু ইউনিট না থাকলেও মেডিসিন ওয়ার্ডেই চিকিৎসা চলছে।
রংপুরে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইজন ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং কোনো মৃত্যু হয়নি। রোগী কম থাকায় এখানে এখনো ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়নি এবং আগাম বড় কোনো প্রস্তুতিও নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে, যেখানে ২০টি শয্যা রাখা হয়েছে। তবে এখনো কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রস্তুতি হিসেবে কর্নার চালু রাখা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
দেশের বিভিন্ন বিভাগে রোগীর সংখ্যা ওঠানামা করলেও অধিকাংশ হাসপাতালে এখনো আলাদা ডেঙ্গু ইউনিট বা কর্নার পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।