
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগাম ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে দেশের চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডেঙ্গু মোকাবিলায় করণীয় সংক্রান্ত এক জরুরি বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সোসাইটি অব মেডিসিনের তত্ত্বাবধানে ডেঙ্গুর চিকিৎসা পরিকল্পনাসহ বিস্তারিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই কার্যক্রমে ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও সহায়তা করছে। আগামীকালের (বুধবার, ৩ জুন) মধ্যেই এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে দেশের সাতটি বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ের চিকিৎসক ও নার্সদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, "এখনো প্রতিদিন দু-একজন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। যেহেতু এই সময়েই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তাই কালক্ষেপণ না করে তা মোকাবিলায় আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি।"
ডেঙ্গু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া, আক্রান্তদের চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ক্যাম্পাসে একটি ‘ফিল্ড হাসপাতাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "রি-এজেন্ট, টেস্টিং কিটস এবং ফ্লুইড স্যালাইনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ বর্তমানে কিছু সংগ্রহে আছে। তবে আসন্ন দিনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী যাতে ঘাটতি না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে এগুলো সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
এডিস মশার উৎপত্তি ঠেকাতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই মাস আগে থেকেই সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে বলেও মন্ত্রী জানান। এছাড়া, বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে একটি বিশেষ অ্যাপ চালুর বিষয়ে আলোচনা এবং ডেঙ্গুবিষয়ক গবেষণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান এবং পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. এ এইচ এম মইনুল আহসান।