
ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছে গোয়া পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ
নানা পাটেকর উত্তর গোয়ার ডোনা পাউলার এলাকার ওশান পার্কে নিজের বাসভবনে ছিলেন। পরে তাঁকে বাম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পুলিশের নথি অনুযায়ী, জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে পুলিশ। বাসায় অভিনেতার মৃত্যু এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করার বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশ উপপরিদর্শক নিতিন নায়েক।
মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালগার এএনআইকে জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ২০ মিনিট থেকে ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নানা পাটেকরকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই তিনি মৃত ছিলেন। ঘটনাটি মেডিকো-লিগ্যাল হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পুলিশকে অবহিত করতে হয়েছে।
পুনেতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য, ভক্তদের ঢল
গোয়ায় মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নানা পাটেকরের মরদেহ পুনেতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই দিন রাতেই পুনের উপকণ্ঠে দোনজে গ্রামের তাঁর নিজস্ব খামারবাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। প্রিয় অভিনেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে সেখানে জড়ো হন হাজারো ভক্ত।
শেষকৃত্যের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁর ছেলে মালহার পাটেকর। তিনি বলেন, নানা পাটেকরের মতো মানুষ কখনো প্রকৃত অর্থে হারিয়ে যান না; তাঁর কাজ ও অর্জন তাঁকে অমর করে রাখবে। বাবার রেখে যাওয়া আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
নানা পাটেকর স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকর ও ছেলে মালহার পাটেকরকে রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় একদিকে যেমন ভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে শোক বিরাজ করছে, অন্যদিকে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে গোয়া পুলিশের তদন্ত চলছে।