
ছোট ও বড় পর্দার একসময়ের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী আসমা ঝিলিকের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোবিজ অঙ্গনসহ সর্বত্র তুমুল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালের অষ্টম তলা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার এবং এই অভিযোগে সরাসরি আঙুল তোলা হয়েছে অভিনেত্রীর স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ ইতিমধ্যেই নিহতের স্বামী সাইফুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে।
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত আলোচিত ‘রংবাজ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন আসমা ঝিলিক। নিহতের স্বজনদের দাবি, শুক্রবার ঝিলিক ও তাঁর স্বামী সাইফুল্লাহ ধানমণ্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও রাগারাগি সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেই বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী সাইফুল্লাহ হাসপাতালের ৮ তলা থেকে ঝিলিককে নিচে ফেলে দেন।
বোনকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে দাবি করে নিহতের ভাই মোজাম্মেল হক অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বোনকে ওর স্বামী মেরে ফেলেছে। আমরা ধানমণ্ডি থানায় বোন হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করেছি।’
অন্যদিকে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে হত্যার কোনো প্রমাণ পাইনি। ময়নাতদন্ত হয়েছে। মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ ও তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
বিনোদন অঙ্গন সূত্রে জানা গেছে, আসমা ঝিলিক যখন অভিনয়ের জগতে নিয়মিত কাজ করছিলেন, তখন চলচ্চিত্র প্রযোজক সাইফুল্লাহর সাথে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর মূলত সংসারে পুরোপুরি মনোনিবেশ করার কারণে এবং স্বামীর আপত্তির জেরে একপর্যায়ে রূপালী পর্দা ও অভিনয় জগৎ থেকে নিজেকে চিরতরে গুটিয়ে নিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী।