
আবারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল হলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা—‘হুজ হু’ সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
সম্প্রতি রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
১৮৪৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী প্রকাশ ও সম্মাননা দিয়ে আসছে ‘হুজ হু’। বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর লক্ষ্য সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা ও সম্মান জানানো।
সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ববিতা বলেন, ‘আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমরা ভাইবোনেরা যেন সুপ্রতিষ্ঠিত হতে পারি। চেষ্টা করেছি বাবা-মায়ের সে স্বপ্ন পূরণ করতে। জীবনের এ পর্যায়ে এসে সম্মাননাটি পেয়ে বাবার কথাই খুব মনে পড়ছে। জীবনে অনেক সম্মাননা পেয়েছি, কিন্তু এ সম্মাননা একেবারেই আলাদা। কারণ হুজ হু সম্পর্কে আমার আব্বা জানতেন। তাই এ অর্জন আমার কাছে অন্য রকম ভালো লাগার।’ তিনি এই অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, ‘যারা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েই আমাদের জাতীয় গৌরব বাড়িয়েছেন। এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের সম্মাননা গুণীজনদের কর্মস্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দেবে এবং উন্নত সমাজ গঠনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।’
একই আয়োজনে কৃষি, শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্য, উদ্যোক্তা, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা আরও ১১ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, ববিতা সম্প্রতি একুশে পদক লাভ করেছেন। বর্তমানে নতুন কোনো সিনেমায় কাজ না করলেও ভালো গল্প পেলে আবার অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। এই স্বীকৃতি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করল, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে।