
চীনের অর্থনৈতিক কাঠামো ও পুঁজিবাদের বিকাশ নিয়ে গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য। তাঁর গবেষণাপত্রের শিরোনাম ‘Sovereign Accumulation: How China Sustains Capitalism Without a Bourgeoisie’। সাড়ে চার বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় চীনে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বুর্জোয়া শ্রেণির বিকাশ ছাড়াই পুঁজিবাদ কীভাবে টিকে থাকে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
নিজের লিংকডইন প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে পিনাকী জানান, গবেষণার মৌখিক পরীক্ষা শেষে পরীক্ষকেরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে ‘ডক্টর পিনাকী ভট্টাচার্য’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি জানান, লরিয়াল ডার্মাটোলজিক্যাল বিউটিতে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডক্টরেট গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।
গবেষণাপত্রের শিরোনামের বাংলা অর্থ—‘সার্বভৌম সঞ্চয়: বুর্জোয়া শ্রেণি ছাড়াই চীন কীভাবে পুঁজিবাদ টিকিয়ে রাখে’। এতে চীনের অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা, পুঁজি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া এবং উদ্যোক্তা শ্রেণির রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, চীনে উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও তাঁরা অন্য অনেক পুঁজিবাদী অর্থনীতির মতো স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শ্রেণিতে পরিণত হননি। রাষ্ট্রের নীতি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে এই ব্যবস্থা কীভাবে টিকে থাকে, তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন গবেষক।
পিনাকী ভট্টাচার্যের লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দ্য ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধীনে গবেষণাটি পরিচালনা করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় চীনের রাষ্ট্রনির্ভর পুঁজি সঞ্চয় ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা।
বাংলাদেশের বগুড়ায় জন্ম নেওয়া পিনাকী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ফ্রান্সের সরবোন বিজনেস স্কুলে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এমবিএ করেন। চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষার্থী থেকে লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও অর্থনৈতিক কাঠামোর গবেষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবনে একাধিক ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।
বর্তমানে তিনি ফ্রান্সে অবস্থিত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান লরিয়ালের ডার্মাটোলজিক্যাল বিউটি বিভাগে মেডিক্যাল রিলেশনস স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, ডিগ্রি সম্পন্ন হলেও শেখার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। <
চীনের অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে পিনাকীর এই গবেষণা রাষ্ট্র, বাজার ও পুঁজির পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতির আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ পাঠ পর্যালোচনা ছাড়া এর বিস্তারিত তাত্ত্বিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা যায় না।