
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। তাদের মধ্যে ৫৫৩ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি, আর নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে যোগ দেননি ৯১৮ জন। পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বিভিন্ন ধাপে বাদ পড়েছেন আরও ৮৩ জন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’-এর আওতায় দুই ধাপে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। এসব পদের বিপরীতে আবেদন করেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। অর্থাৎ প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের জন্য আবেদন করেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। পরে তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করে সুপারিশপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময় ও পরবর্তী কয়েক দফা নির্দেশনার পর ১৩ হাজার ৮৩১ জন কাগজপত্র জমা দেন। বাকি প্রার্থীদের মধ্যে ৫৫২ জন কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। এ ছাড়া একজন প্রার্থী মারা গেছেন।
কাগজপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জন নিয়োগপত্র পান। তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন চাকরিতে যোগ দেন। অন্যদিকে ৯১৮ জন নিয়োগপত্র পেয়েও কর্মস্থলে যোগ দেননি।
ফলে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ৫৫৩ জন এবং নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও যোগ না দেওয়া ৯১৮ জন—সব মিলিয়ে ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেননি। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ধারণা, তাদের কেউ অন্য চাকরিতে চলে গেছেন, আবার কেউ নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে নিয়োগের বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে নিয়োগপত্র পেলেও শেষ পর্যন্ত ৮৩ জন নিয়োগ পাননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেক প্রার্থী কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় শুরু থেকেই বোঝা গেছে তারা চাকরিতে আগ্রহী নন। আবার কেউ নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও যোগ দেননি। তাদের অনেকের অন্য কোথাও চাকরি হয়ে থাকতে পারে। সরকারি নিয়োগে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়।
তবে এবার বিপুলসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় বিষয়টি অধিদপ্তরের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। আবদুর রহিম বলেন, বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এরপরও পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। এ কারণে দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।