
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নীতির সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষার মধ্যে বুধবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৪৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম ০.২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৭৭ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষক ফ্র্যাঙ্ক ওয়ালবাম বলেন, স্বর্ণের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে। ফেডের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশ হলে নীতিনির্ধারকদের সুদের হার নিয়ে অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তার মতে, মুদ্রানীতি নিয়ে ফেড কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে সমর্থনের মাত্রা স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের আয়, ডলার বা তেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তা স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব আরও বাড়াতে পারে।
ফেড কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডেলি বলেছেন, সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে কি না, তা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতির চাপ কমছে নাকি অব্যাহত থাকছে তার ওপর। কানসাস সিটি ফেডের প্রেসিডেন্ট জেফ স্মিড অবশ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে আরও সুদ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত আয় দেয় এমন সম্পদের দিকে বেশি ঝোঁকেন। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে।
এদিকে ইতালির সোরেন্টোতে অনুষ্ঠিত লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, আগামী ১২ মাসে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৩ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ১২ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স