
টানা বর্ষণ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে নাকি স্থগিত করা হবে—সে বিষয়ে সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে চলমান বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। একই সঙ্গে গতকাল থেকেই দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সব শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সর্বশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস হাতে পাওয়ার পর আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা গ্রহণ বা স্থগিতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো এলাকায় পরীক্ষা স্থগিত করার প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে সেই পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। সব সিদ্ধান্তই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব সম্পর্কে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বাস্তবে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে না। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি প্রতারক চক্র ভুয়া প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে প্রতারণার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে—এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করলে প্রতারক চক্র উৎসাহিত হয়। বরং স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, প্রশ্নফাঁস হয়নি।
তিনি জানান, এ ধরনের সাইবার অপরাধ দমনে আইন আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়মের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভোলার চরফ্যাশনের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে কুমিল্লায় এক শিক্ষক নিজের পরিবর্তে একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করানোর ঘটনায় ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।