
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা ধরনের ট্রোল হলেও তিনি এতে বিরক্ত নন, বরং আনন্দিত হন। তিনি মনে করেন, এসব ট্রোল ইঙ্গিত দেয় যে সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং সামনে কঠোর পদক্ষেপ আসছে তা তারা বুঝতে পারছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে যশোর শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এখন পরীক্ষার প্রতিও আগ্রহ হারাচ্ছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সহনীয় ফি নিয়ে আলাদা ক্লাস নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে শিক্ষকরা বাইরের কোচিং সেন্টারে গিয়ে পাঠদান করতে পারবেন না। এছাড়া সব পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধাপে ধাপে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যাতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বোর্ডগুলোতে খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো সুসংহত গবেষণা বা নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। অনেক সময় পরিচিত পরীক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যা মূল্যায়নের মানকে প্রভাবিত করতে পারে। এ অবস্থার পরিবর্তনে নতুন পরীক্ষক তৈরি ও তাদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৪০ সালের প্রচলিত আইন সংশোধন করে খাতা মূল্যায়নে র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষকদের মূল্যায়নের মান যাচাই করা সম্ভব হবে এবং নম্বর প্রদানে অসঙ্গতি থাকলে তা শনাক্ত করা যাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি নয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বারবার ভর্তি নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। একবার রেজিস্ট্রেশনই যথেষ্ট, প্রতি শ্রেণিতে নতুন করে ভর্তি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।