
গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে আমানতও আসছে। একদিকে গ্রাহকদের উত্তোলনের আবেদন মেটাচ্ছে ব্যাংকটি, অন্যদিকে নগদ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মাধ্যমে টাকা জমা দিচ্ছেন গ্রাহকেরা। একই সঙ্গে নতুন হিসাব খোলার প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে।
ব্যাংকটির ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৯টি আবেদনের বিপরীতে মোট ৬ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার ৭৫২ জন গ্রাহককে ২ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে ব্যাংকটি।
একই সময়ে ব্যাংকটিতে নতুন করে আমানতও জমা পড়েছে। ৭ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি আমানত ও অন্যান্য হিসাবে ২ হাজার ২০ কোটি টাকা পেয়েছে। এ সময়ে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৮১ জন গ্রাহক নগদে ৭৬২ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন।
পাশাপাশি বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) ও রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) ব্যবস্থায় ৬০ হাজার ২৩৩ জন গ্রাহক ১ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছেন।
এ ছাড়া নতুন করে ২৪ হাজার ৯৬৫টি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এসব হিসাবধারী ইতোমধ্যে ৩০৩ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ৭ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমানত ও অন্যান্য হিসাবে ২ হাজার ২০ কোটি টাকা এসেছে। নিয়মিত স্কিম, আমানত ও উত্তোলনের কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।
তিনি বলেন, অনুমোদন পাওয়ার পর কিছু গ্রাহক তাৎক্ষণিকভাবে টাকা উত্তোলন করেননি। পরে উত্তোলন করবেন বলে তাঁরা ব্যাংককে জানিয়েছেন।
ওই সময়ে ব্যাংকটির মোট নগদ উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকদের আবেদনের বিপরীতে পরিশোধ করা ২ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকাও রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নতুন ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যাংকটির কার্যক্রম ও আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। লেনদেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়া আমানতকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।