
বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে মোট ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার বেশি। সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার।
এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
নিলোফার চৌধুরী মনি ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কোন দেশ থেকে কত রেমিট্যান্স এসেছে, তা জানতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের একটি অংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয় উল্লেখ করে, দুই অর্থবছরে এসব অর্থে কোথায় কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও জানতে চান তিনি।
যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬০ শতাংশ
সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাজ্য থেকে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.৭২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৬০.১ শতাংশ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪.৫৮৪ বিলিয়ন ডলারে হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসী আয় ২.৮০৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৪০ বিলিয়ন ডলারে।
ওমান থেকে রেমিট্যান্স ১.৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং ইতালি থেকে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২.৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স ১.৬২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। একইভাবে কাতার থেকে ১.২০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৫৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে।
সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেও প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪০৩ মিলিয়ন ডলার থেকে ৬৬৯ মিলিয়ন ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে কমেছে
সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়লেও সব দেশ থেকে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পায়নি। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসদেশ থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা অর্থে।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা কমে ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ফলে এক বছরে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৩৫.৯ শতাংশ।
কানাডা থেকেও রেমিট্যান্স প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ২২১ মিলিয়ন ডলার এলেও পরের অর্থবছরে তা কমে ১১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
এ ছাড়া মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও বেড়েছে
ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে। ফ্রান্স থেকে প্রবাসী আয় ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৭১.৪৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গ্রিস থেকে রেমিট্যান্স ১৮৫.১১ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৩.৮২ মিলিয়ন ডলার।
জর্ডান থেকে রেমিট্যান্স ১৬৮.১৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৪৬.৩৬ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকেও প্রবাসী আয় ১৯৭.৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৫৮.১৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অধিকাংশ উৎসদেশ থেকেই বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।