
পাঁচ বছরের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এর বাইরে সরকারি ও বেসরকারি আরও ২১টি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এসব কর্মসংস্থান কীভাবে বৃহৎ পরিসরে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনগুলো। পুরো কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি করবে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি, নির্বাচনী ইশতেহার এবং আগামী পাঁচ বছরের সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলগত কাঠামো নিয়ে শনিবার ফাউন্ডেশনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন, শুধু পিকেএসএফের মাধ্যমেই পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত। পিকেএসএফের পাশাপাশি বাকি ২১টি ফাউন্ডেশন থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তবে সব ফাউন্ডেশন মিলিয়ে মোট কত কর্মসংস্থান হবে, সে লক্ষ্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দিয়ে সরকার দায়িত্ব শেষ করতে চায় না; বাস্তবে কত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইএমইডিকে কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের পাশাপাশি একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক কৌশলের দার্শনিক ভিত্তি হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ধারণাকে সামনে রাখা হয়েছে। এর মূল কথা হলো—সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হলে সব শ্রেণি-পেশা ও খাতের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
এই অংশগ্রহণ বাড়াতে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্প—সব খাতকে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং বাজেটে অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য সহায়তার বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব
জ্বালানি সংকট নিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অতীতে আমদানিনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পরিবর্তে নির্ভরতার কাঠামো তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের শুধু ভোক্তা হিসেবে না দেখে উৎপাদক হিসেবেও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তবতা আড়াল না করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছে সরকার। গত ছয় মাসে দেশে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এই খাতের উৎপাদন আরও বাড়াতে অর্থায়নের পদ্ধতি নিয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
চলতি বাজেটে সৌরবিদ্যুতের জন্য বরাদ্দ রাখা দুই হাজার কোটি টাকা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও সরকার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের উৎপাদকে পরিণত করার পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ৩০ হাজারের বেশি আবেদনও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ খাতে সহজ ও সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি ইডকল এবং অবকাঠামো অর্থায়ন তহবিল (বিআইএফএফএল)কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত অর্থায়ন কাঠামো অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক বা উৎপাদক প্রকল্প ব্যয়ের ২০ শতাংশ দেবেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দেবে আরও ২০ শতাংশ এবং বাকি ৬০ শতাংশ সরকারি ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। এ ঋণের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার সুযোগ থাকবে। এতে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।
এলএনজির চেয়ে সৌরবিদ্যুতে কম খরচ
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় এলএনজি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় অনেক বেশি বলেও জানান উপদেষ্টা। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় প্রায় ৬৪ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, দেশে এক গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করা গেলে বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ ভর্তুকি কমানো সম্ভব হতে পারে। সাশ্রয় হওয়া এই অর্থ সরকারের অন্যান্য খাতে ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হবে।