
বকেয়া বিলের কারণে দীর্ঘ ১০ (দশ) মাস ধরে কারখানার সমস্ত গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও ‘গ্যাসের প্রেসার কম’ থাকা এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির মত সম্পূর্ণ কাল্পনিক অজুহাত দেখিয়ে কারখানা লে-অফ (কাজ বন্ধ) ঘোষণা করেছে পূঁজিবাজারের তালিকাভূক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানী ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেড। গেল ২৩ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানীটি এই মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করে। প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ২২ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ অনুষ্ঠিত কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ঐদিন থেকে পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের জন্য কারখানা লে-অফ থাকবে।
কিন্তু নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে প্রতিষ্ঠানটিতে গত দশ মাস ধরে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন। কর্মচারীদের বেতন বাকি প্রায় ১৩ মাসের কাছাকাছি। এতদিন পরে ঘটা করে লে অফ ঘোষণার মধ্যে অন্য কোন চক্রান্ত রয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত (নোটিশ বা পদত্যাগের মাধ্যমে যাদের এখনো চাকুরীর অবসান হয়নি) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর থেকেই কারখানাটির ৪টি গ্যাস সংযোগের সবকটিই বিচ্ছিন্ন করে দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফু-ওয়াং এর এক কর্মকর্তা বলেন, যে কারখানার ১০ (দশ) মাস ধরে কোনো গ্যাস সংযোগ নেই, সেখানে ‘গ্যাসের প্রেসার কম’ মর্মে কাল্পনিক অজুহাত তুলে লে-অফ ঘোষণা মানেই এই কারখানাটি নিয়ে এমডি মিয়া মামুন নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তিনি বলেন, এটি কেবল বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টাই নয়; বরং কারখানা বন্ধের প্রকৃত তথ্য গোপন করে দেশের বর্তমান সংবেদনশীল গ্যাস পরিস্থিতিকে পূঁজি করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার একটি দূরভীসন্ধিমূলক চক্রান্ত।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটির আলোচিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়া মামুন বিভিন্ন শেয়ার কেলেঙ্কারীতে জড়িত এবং পতিত সরকারের আমলে বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান পদে থাকা শিবলী রুবাইয়্যাত-উল-ইসলামের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত। সেসময়ে শিবলী রুবাইয়্যাতের প্রত্যক্ষ ও অনৈতিক সহযোগিতায় ফু-ওয়াং ফুডের মাত্র ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ পরিচালক শেয়ার মূল্য পরিশোধ ছাড়াই নানা অপকৌশলের মাধ্যমে ক্রয় করে তিনি ফ-ুওয়াং ফুড লিমিটেড এর নিয়ন্ত্রণ নেন। ফু-ওয়াং ফুডের দায়িত্ব নেয়ার পরপরই কোম্পানীর অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার শুরু করেন এবং সেসময়ে, শিবলী রুবাইয়্যাতের মদদে পূজিবাজারের দুষ্ট চক্রের সাথে যোগসাজসে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি কোম্পানী ফু-ওয়াং ফুডস ও এমারল্ড অয়েল নিয়ে শেয়ার কারসাজিতে লিপ্ত হন এবং কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে ৮ টাকার এমারল্ড অয়েলের শেয়ার ১৮৮ টাকায় তুলে এবং ১৬.৫০ টাকার ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ার ৪৮ টাকায় তুলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সর্বশান্ত করেন।
কোম্পানীটির অভ্যন্তরের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানান, মিয়া মামুনের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার রেকর্ড এবারই প্রথম নয়। মূলত ২০২৪ সালের ৩০ শে সেপ্টেম্বর মিয়া মামুন প্রতারণা ও চেক জালিয়াতি মামলায় আটক হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই, একে একে প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ ও পরিবেশকদের জামানত আত্মসাৎসহ, কোম্পানীর চলতি মূলধন পাচার, সরবারহকারীদের ও চাকুরী অবসানে শ্রমিকের চূড়ান্ত পাওনা না দেয়া এসব অনিয়ম প্রকাশ পেতে শুরু করে। তখন থেকে কারখানাটি বেশীরভাগ সময় বন্ধ থাকলেও, সত্য গোপন করতে ডিএসই ও বিএসইসিকে ধারাবাহিক ভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করার পাশাপাশি পূঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করে আসছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৭ মার্চ ২০২৫ থেকে কারখানার শ্রমিকরা ফেব্রুয়ারী মাসের বকেয়া বেতনের জন্য আন্দোলন শুরু করলে তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই সূত্রের ভিত্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানীর কাছে ব্যাখ্যা চাইলে, ২৩ মার্চ ২০২৫ তারিখের চিঠিতে ফু-ওয়াং ফুড্স কর্তৃপক্ষ জানায় “গতকাল সন্ধ্যা থেকে (অর্থাৎ ২২.০৩.২৫ তারিখ) ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন দেয়া শুরু হয়েছে। যেহেতু (বেতন দিতে) রাত হয়ে যায় এবং টাকার পরিমাণ বেশি ছিল, তাই কিছু শ্রমিকের বেতন দেয়া তখনও বাকী ছিল।” অথচ প্রকৃতপক্ষে সেদিন কোনো বেতন পরিশোধ করা হয়নি, বরং ইতিমধ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটি আসন্ন থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর চাপে পড়ে ২৮ ও ২৯ মার্চ ২৪১ জন অস্থায়ী শ্রমিককে (যারা ৬ মাস থেকে ৪ বছর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন) ফেব্রুয়ারী মাসের বকেয়া বেতন, মার্চ মাসের ১৪ দিনের বেতন ও বোনাস দিয়ে মৌখিকভাবে তাদেরকে ঈদের পরে কর্মে যোগদান করতে নিষেধ করে দেয়া হয়। বাকী থাকা ১৯৫ জন অস্থায়ী শ্রমিককে শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন দেয়া হয়। তবে ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেলেও কারখানার কোন স্থায়ী শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পাননি।
এই বঞ্চনার প্রতিবাদে ঈদের ছুটির পরে এপ্রিল মাসে শ্রমিক কর্মচারীরা ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন ও বোনাসের দাবিতে পুনরায় বিক্ষোভ করলে ডিএসই আরারও ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয়। এর জবাবে গত ০৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের চিঠিতে ফু-ওয়াং ফুড্স কর্তৃপক্ষ জানায় যে, শ্রমিকরা মূলত চলতি মাসের (অর্থাৎ মার্চ মাসের) বেতনের জন্য বিক্ষোভ করে এবং কর্তৃপক্ষ সকল শ্রমিকের মার্চ মাসের বেতনও পরিশোধ করেছেন। যা পরবর্তিতে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।
ফু ওয়াং এ কর্মরত এক কর্মচারি জানান, ‘যেখানে শ্রমিকের ফেব্রুয়ারী মাসের বেতনই তখন পর্যন্ত পরিশোধ হয়নি সেখানে মার্চ মাসের বেতন দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। ’
ঘটনারই ব্যাখ্যা চেয়ে ডিএসই দুই মাসে দুটি ব্যাখ্যা তলব করলেও, ফু-ওয়াং ফুড্স কর্তৃপক্ষ প্রতিবারই চরম মিথ্যাচার ও চাতুর্য্যরে আশ্রয় নিয়ে ডিএসই-র কাছে পরস্পর বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে।
বেতন না পাওয়ার বিষয়টি সেসময়ে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ডিএসই ও বিএসইসিকে চিঠি দেওয়া হয় বলে জানান ওই কর্মচারি।
গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে ফু-ওয়াং এর শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি নিয়ে ডিএসই চিঠি দিলে, প্রথমে নির্ধারিত সময়ের ভেতর চিঠির জবাব না দিয়ে ফু-ওয়াং ফুড্স কর্তৃপক্ষ প্রথমে কালক্ষেপণ করতে থাকে। অবশেষে ৫ জুলাই ২০২৬ ডিএসই, বিএসইসি ও বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে জানায় “কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের পর কিছুদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যায়ক্রমে চালু হচ্ছে।”
অথচ এর দেড় মাস পরে ২৩ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, কারখানাটি ৬ (ছয়) মাসের জন্য লে-অফ থাকবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে বকেয়া বেতনের কারনে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক-কর্মবিরতি ও তারপর ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে কারখানাটি মূলত সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। সেখানে ২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসে কারখানার ‘উৎপাদন প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যায়ক্রমে চালু’ হওয়ার যেমন কোনো সুযোগ নেই, তেমনি ১০ মাস আগে থেকে বিচ্ছিন্ন গ্যাস লাইনে ‘পর্যাপ্ত গ্যাস প্রেসার’ না থাকায় লে-অফ ঘোষণারও কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে বেতন বকেয়া ও শ্রমিকের চূড়ান্ত পাওনা না দেয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের একটি প্রতিবেদনে, যা পরবর্তীতে শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলা হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে। নথিপত্র থেকে জানা যায় তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রম পরিদর্শক গত ১৭ জুন ২০২৫ তারিখে সরেজমিনে কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট দাখিল করেছিলেন, যার ভেতর উল্লেখযোগ্য ছিল (ক) শ্রমিকদের নিয়মিত মাসিক মজুরী আইনে নির্ধারিত নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পরিশোধ করা হয়নি (খ) আইনের বিধান অনুযায়ী শ্রমিকদের ছুটি নগদায়ন করা হয়নি (গ) মালিক কর্তৃক শ্রমিকদের নিয়মিত মাসিক মজুরী পরিশোধের দায়িত্ব পালন করা হয়নি (ঘ) শ্রমিকদের চাকুরি অবসান, ছাঁটাইকাল ইত্যাদি কারণে চাকুরি রেজিষ্ট্রার, প্রাপ্ত নোটিশ সমূহ আইনমাফিক সংরক্ষণ করা হয় না। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে বারবার রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে এসব আইন লঙ্ঘণ জনিত ব্যাখ্যা ও সংশোধনের তাগিদ দেয়া হলেও ফু-ওয়াং ফুডস কোনপ্রকার জবাব প্রদান করেন নাই এবং কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। উক্ত মামলায় আদালতের সমনে সাড়া না দিয়ে মিয়া মামুন কয়েকটি তারিখ অনুপস্থিত থাকায় মিয়া মামুনের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
জানা গেছে ২০২৫ সালে কারখানাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হওয়ার সময় প্রায় এক হাজার শ্রমিক কর্মচারীদের তিন মাসের বকেয়া বেতন পাওনা ছিলো, যা অদ্যাবধি কোম্পানী প্রদান করেনি এবং শ্রমিকদের চাকুরী অবসানান্তে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটিসহ অপরাপর চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধ করেননি, বঞ্চিত স্থায়ী শ্রমিকদের অনেকেই শ্রম আদলতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং আদালতে অনেক শ্রমিকের মামলার পাওনা পরিশোধের রায় দেয়া হয়েছে এবং অনেক মামলা রায় প্রাপ্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করছেন দীর্ঘ দশ মাস বেআইনিভাবে কারখানা বন্ধ রাখার পর হঠাৎ নতুন করে ২২ আগষ্ট ২০২৬ থেকে ৬ মাসের লে-অফ দেখানোর পেছনে চাতুর্যপূর্ণ আইনি মারপ্যাচের ছক রয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
সরেজমিনে গিয়ে কোম্পানীর বনানীস্থ নিজস্ব মালিকানাধীন প্রধান কার্যালয়টি নিয়মিত কর্মদিবসেও বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়। আশেপাশের দোকান ও অফিসে কাজ করা লোকদের নিকট জানতে চাইলে তারা জানায়, অফিসের মেইন গেট সবসময় বন্ধ করেই রাখা হয়, তারা মাঝে মাঝে কিছু পাওনাদারদের অফিসের বাইরে ভীড় করতে দেখেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিয়া মামুন ওরফে মোঃ মামুন মিয়া বিগত একবছরের অধিক সময় যাবৎ কখনোই প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন নাই, শুধুমাত্র ৪/৫ জন কর্মকর্তা মাঝে মধ্যে গোপনে কিছু সময়ের জন্য অফিসে আসে কিন্তু পাওনাদারদের ভয়ে মূল কলাপসিবল গেট বন্ধ রাখা হয়। ২০২৪-২৫ সাল থেকে ব্যাংক লোনের কিস্তি পরিশোধ না করায় ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, বনানী শাখা কোম্পানীর প্রধান কার্যালয়, কারখানর ভবন ও জমির জন্য ৮ অক্টবর ২০২৫ তারিখে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো গাজীপুর হোতাপাড়ায় অবস্খিত কারখানার আশেপাশে দোকানদার ও কর্মহীন শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানীর মূল্যবান সম্পদ - যার মধ্যে পণ্য পরিবহনের যানবাহন, দামী ক্যাবল, উৎপাদনের মেশিন, যন্ত্রাংশ এবং প্যাকেজিং সামগ্রীর মজুদ অন্তর্ভূক্ত - ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মিয়া মামুনের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এবং কোম্পানীর সেলস এন্ড মার্কেটিং জিএম মেহেদী হাসান এর তত্ত্বাবধানে রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে ফেলে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এই অবৈধ বিক্রয়লব্ধ অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়া ক্রমাগত চলমান আছে। এ অবস্থায় কোম্পানীটি যদি অবসায়নের দিকে যেতে বাধ্য হয়, তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ এবং আইনানুগ পাওনাদারদের দায় পরিশোধের সক্ষমতাও থাকবে না।
উল্লেখ্য যে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মিয়া মামুন এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গত ১৭ মে ২০২৫ তারিখে একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিল (স্মারক নং বিএসইসি/আইইআইডি/ইনকোয়ারি/২০২৫/১৫/১১১৮)। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উক্ত অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করে গত ২০২৫ সালের অক্টবর মাসে কোম্পানীর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অভিযুক্ত করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলেও, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও উক্ত প্রতিবেদনটি অদ্যাবধি আলোর মুখ দেখেনি। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিএসইসি-র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মিয়া মামুন উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দিয়ে অকার্যকর করে রেখেছেন।
ফু-ওয়াং ফুডস এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্ত ৃপক্ষের বিরুদ্ধে ২০২৪ সাল থেকে অনেক অভিযোগপ্রত্র জমা পড়লেও গত দুই বছরের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএসইসি কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করলে বিএসইসি-র সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিতভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ে। কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদের শেয়ার ধারনের হার মাত্র ৭.৬১ শতাংশ, যেখানে সাধারন বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে ৯২ শতাংশ শেয়ার। এ অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আপনাদের দ্রুত ও কার্য্যকরী পদক্ষেপ একান্ত কাম্য।