
নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে রাজধানীর বাজারে ক্রেতাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে মাছ, মুরগি ও ডিমের চড়া দামে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যতালিকা থেকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের উচ্চমূল্যের চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন ২৫০ টাকার নিচে তেমন কোনো মাছই পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়। মধ্যবিত্তের বহুল পছন্দের রুই ও কাতলা কিনতে খরচ হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি। মাঝারি আকারের রুইয়ের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের জন্য গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি গরুর মাংসের দামও প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় রয়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, আড়াইশ টাকার নিচে মাছ না পাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের জন্য নিয়মিত মাছ কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রায়েরবাজারের ক্রেতা সাইদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে এখন কোনো কিছুতেই হাত দেওয়ার জো নেই। আড়াইশ টাকার নিচে এক কেজি সাধারণ তেলাপিয়া মাছও মিলছে না। সীমিত আয়ের মানুষ নিয়ে আমরা কীভাবে বাঁচব?
মাছের পাশাপাশি মুরগি ও ডিমের দামও ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে না। বাজারদর নতুন করে বড় না বাড়লেও ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম আরও বেশি—প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা।
ডিমের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। লাল ডিমের এক ডজনের দাম সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে তা ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
তবে বিক্রেতাদের ভাষ্য, মাছ ও মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় নতুন করে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি; আগের বাড়তি দামেই এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলছেন, আয় না বাড়লেও মাছ, মুরগি ও ডিমের মতো প্রয়োজনীয় খাবারের পেছনে ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। ফলে অল্প কিছু পণ্য কিনতেও আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করা না হলে মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কেনার সক্ষমতা আরও কমে যাবে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার চাপও আরও বাড়বে।