
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতির অবসানে দ্রুত এবং ন্যায়সংগত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। এর প্রভাব শুধু উদ্যোক্তাদের ওপরই পড়ছে না; তাঁদের পরিবার, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাঁদের ভাষ্য, কোনো একটি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে শুধু একটি ব্যবসা থেমে যায় না, এর সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা ও আর্থিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হয়।
উদ্যোক্তারা বলেন, ‘আমরা কি কোনো অপরাধ করেছি? অপরাধ না করলে আমাদের জীবিকা কেন বন্ধ থাকবে এবং ভবিষ্যৎ কেন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে?’
তাঁরা জানান, কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, তাঁরা চান ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত, দ্রুত সংকটের নিষ্পত্তি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পুনরায় চালু করা। এ জন্য বিষয়টি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনার আহ্বান জানান তাঁরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উদ্যোক্তারা বলেন, এজেন্ট উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তারা বলেন, ‘আমরা সর্বদা নিয়ম মেনে চলেছি এবং ভবিষ্যতেও নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রস্তুত। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাও আমরা মেনে চলব। তবে আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় শুধু অপেক্ষা করতে করতে শেষ হয়ে যাক, এটি আমরা চাই না।’
তাঁদের অভিযোগ, সংকট সমাধানে এর আগে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন, আবেদন ও আলোচনা করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ও স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর আবারও গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
উদ্যোক্তারা বলেন, ‘আর কোনো সংবাদ সম্মেলন নয়, আর কোনো দীর্ঘ অপেক্ষা নয়; এবার আমরা একটি কার্যকর, ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধান দেখতে চাই।’
তাঁরা আরও বলেন, তাঁরা কোনো সংঘাত চান না, চান সমস্যার সমাধান; আন্দোলন নয়, চান ন্যায়বিচার। কারও বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান নয়, বরং নিজেদের অধিকার, কর্মসংস্থান ও জীবিকার নিশ্চয়তার জন্যই তাঁরা দাবি জানাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অগ্রণী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান, উদ্যোক্তাদের অনিশ্চয়তা দূর করা এবং তাঁদের কর্মসংস্থান ও জীবিকার পথ পুনরায় চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।