
চাকরি হারানোর এক বছর পরও পুনর্বহাল না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা অবিলম্বে চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়া, বকেয়া বেতন-ভাতাসহ সব প্রাপ্য পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘চাকরিচ্যুত মজলুম ব্যাংকার’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বগুড়ার সান্তাহার শাখার সাবেক জুনিয়র অফিসার মো. এরশাদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ ইসলামী ধারার কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার দক্ষ, নিরীহ ও নিরপরাধ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোনো নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই চাকরিচ্যুত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য পরে ‘স্পেশাল কম্পিটেন্সি অ্যাসেসমেন্ট’ নামে একটি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এবং হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে অনেক কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরে সেটিকেই চাকরিচ্যুতির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরশাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুতদের মধ্যে কেউ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে, কেউ ওমরাহ পালন কিংবা চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলেন। আবার অনেক কর্মকর্তা চার থেকে সাত বছর চাকরি করার পরও একযোগে চাকরি হারিয়েছেন। অনেকের চাকরিতে পুনরায় যোগ দেওয়ার বয়সসীমাও ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, চাকরি হারানোর পর অসংখ্য ব্যাংকার ও তাদের পরিবার চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। এমনকি এই পরিস্থিতিতে একাধিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছে পুনর্বহালের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই মানবিক বিবেচনায় দ্রুত চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— সব চাকরিচ্যুত ব্যাংকারকে দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহাল, চাকরিচ্যুত সময়ের বেতন-ভাতা ও বোনাসসহ সব প্রাপ্য পরিশোধ এবং চাকরিচ্যুতদের রাজনৈতিক, আঞ্চলিক বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ে চিহ্নিত করা ও তাদের যোগ্যতা নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করা।
বক্তারা বলেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে তারা বৃহত্তর পরিসরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।