
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর জনজীবনের পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারেও। ক্রেতা কমলেও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ঢাকার বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে বেশ কয়েকটি সবজি, মাছ ও ডিমের দাম। সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে কাঁচামরিচে, যার দাম কেজিপ্রতি এক ধাক্কায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে মুরগির বাজারে আগের দামই বহাল রয়েছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বর্ষণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় পর্যাপ্ত সবজি রাজধানীতে পৌঁছাচ্ছে না। এ কারণে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ কমার কথা বলা হলেও বাজারে সবজির ঘাটতি চোখে পড়ছে না, তারপরও বেশি দাম গুনতে হচ্ছে।
বর্তমানে করলা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বেগুনের দাম আকারভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও হাইব্রিড ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, ফুলকপি প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কাঁচামরিচের দামে, যা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এক হালি লেবুর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা। দেশি ধনেপাতা প্রতি কেজি ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এছাড়া লাল শাক প্রতি আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং দুই আঁটি ডাটা শাক ও কলমি শাক যথাক্রমে ৩০ ও ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন না এলেও ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি কক মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩০০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বড় তেলাপিয়া ২৩0 থেকে ২৫০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা এবং কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া টেংরা ও শিং মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকারভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাজারে আসা ক্রেতাদের অনেকেই বাড়তি দামে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বুলবুল নামে এক ক্রেতা বলেন, "বাসায় মাছ-মুরগি নেই। তাই বৃষ্টির মধ্যে বাজারে এসেছি। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি কিনেছি ১৭০ টাকা কেজিতে কিন্তু আজ ১৯০ টাকা কেজি দরে নিতে হয়েছে। মাছের দামও কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা করে বেড়েছে।"