
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)-এর চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে থাকা ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগ তুলে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট আটজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
এতে মো. শওকত আলী চৌধুরীকে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিক এবং ব্যাংক খাতের আলোচিত ব্যবসায়ী এস আলম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাজ্যে থাকা ২৫ মিলিয়ন ডলার দুবাইয়ে স্থানান্তরের চেষ্টা হলেও তা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী রেজওয়ানুল সাঈদের অভিযোগ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে পাচার করা সম্পদের তদন্ত চলাকালে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) শওকত আলী চৌধুরীর নামে রাখা ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সন্ধান পায়। পরে তিনি ওই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মাশরেক ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডিতে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন।
নোটিশে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক লেনদেনটি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে বিএফআইইউকে বিষয়টি জানায় এবং চার সপ্তাহের মধ্যে ফ্রিজিং অর্ডার বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএ) আবেদন না পেলে অর্থ আটকে রাখা সম্ভব হবে না বলে জানায়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অর্থটি দুবাইয়ে স্থানান্তরিত হয় এবং রাষ্ট্র তা জব্দ বা ফেরত আনার সুযোগ হারায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়, বিষয়টি জানার পর শওকত আলী চৌধুরী ২০২৫-২৬ করবর্ষে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ দেখিয়ে ওই সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিদেশে পাচার করা সম্পদ কেবল কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা যায় না; মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী এটি একটি পৃথক ফৌজদারি অপরাধ।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএফআইইউ ২০২৫ সালের ৩০ জুন ও ৩০ জুলাই দুই দফায় শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছিল। সংস্থাটির অনুসন্ধানে ২৮টি ব্যাংকের ১৮৭টি হিসাবে প্রায় ৮ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ গঠনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া এস আলম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের সহযোগী হিসেবে শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তদন্ত বারবার থমকে গেছে বলেও নোটিশে অভিযোগ করা হয়।
নোটিশে ২৫ মিলিয়ন ডলার সংক্রান্ত সব গোয়েন্দা তথ্য ও নথি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর চলমান অনুসন্ধানে সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একটি তফসিলি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত চলমান থাকায় তিনি ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন কি না, তা পুনর্মূল্যায়নেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।